বিশ্বজুড়ে ঘাটতি

ভারত থেকে দস্তা রফতানি বাড়ার সম্ভাবনা

বিশ্বের ইস্পাত, অটোমোবাইল ও ব্যাটারি প্রযুক্তি খাতে দস্তার চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাসের পাশাপাশি ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারও বাড়ার আভাস মিলছে।

বিশ্বের ইস্পাত, অটোমোবাইল ও ব্যাটারি প্রযুক্তি খাতে দস্তার চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাসের পাশাপাশি ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারও বাড়ার আভাস মিলছে। এছাড়া চলমান শুল্কযুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ভারতীয় উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইস্পাত ও গাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতের বৈশ্বিক ক্রেতারা এখন ভারত থেকে দস্তা সংগ্রহের দিকে ঝুঁকছেন। তাই সামনের দিনগুলোয় ভারত থেকে ধাতবপণ্যটির রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

জানা গেছে, নাইরস্টার এনভি ও টেক রিসোর্সেসের মতো বিশ্বখ্যাত দস্তা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো চলতি বছর তাদের উৎপাদন ২০-২৫ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া নিম্নমুখী উৎপাদন, খরচ ও শুল্ক বৃদ্ধি এবং কঠোর পরিবেশগত বিধিনিষেধের কারণে চীনের দস্তা রফতানি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম বৃহৎ দস্তা উৎপাদনকারী কোম্পানি কোরিয়া জিঙ্কের শেষ প্রান্তিকে ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লোকসান হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন প্রেক্ষাপটে ইস্পাত, অটোমোবাইল, ব্যাটারি ও নির্মাণ খাতে ব্যবহৃত ধাতু দস্তার ক্ষেত্রে ভারত বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎস হিসেবে সামনে আসছে।

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দস্তা উৎপাদনকারী দেশ ভারত। দেশটি এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে আছে। অম্বারিশ বলিগা নামের এক স্বতন্ত্র বিশ্লেষক বলেন, ‘দস্তার প্রধান ব্যবহার গ্যালভানাইজেশনে। তাছাড়া বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে জিঙ্ক-আয়ন প্রযুক্তির ব্যবহারও সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তাই এ খাত থেকেও ভবিষ্যতে বড় চাহিদা তৈরি হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০২৪ সালের জন্য উদ্বৃত্ত সরবরাহের পূর্বাভাস থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত ঘাটতিতে রূপ নেয়। এ বছরও একই ধারা বজায় থাকলে দামের ওপর তা প্রভাব ফেলবে।’

বৈশ্বিক গবেষণা ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে পরিশোধিত দস্তার চাহিদা ২ দশমিক ৫ ও ২০২৬ সালে ২ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে। এ সময় ইউরোপের উৎপাদন খাত পুনরুদ্ধার হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্কের কারণে বাজারে কিছুটা প্রতিকূলতা তৈরি হতে পারে। তবু বৈশ্বিক দস্তার চাহিদা ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্রমাগত বাড়বে বলে পূর্বাভাস মিলেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সংকটের সুযোগে ভারতের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ২০২৫ সালে ৬ দশমিক ৪ এবং ২০২৬ সালে ৭ শতাংশ হারে বাড়বে বলে উড ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল জিঙ্ক অ্যাসোসিয়েশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে ভারতের দস্তা ব্যবহারের পরিমাণ ২০ লাখ টনের বেশি হবে।

আরও